মূলধনী আয় - Capital Income
1/19/2026


আয়কর ব্যবস্থায় মূলধনী আয় (Capital Income) একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেকের কাছে জটিল বিষয়। বিশেষ করে জমি, ফ্ল্যাট বা শেয়ার বিক্রির সময় কর কত হবে—এ নিয়ে করদাতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়।
এই ব্লগে আমরা বাংলাদেশ আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী মূলধনী আয়ের সংজ্ঞা, হিসাব পদ্ধতি ও করহার সহজ ভাষায় আলোচনা করবো।
মূলধনী আয় কী?
মূলধনী আয় (capital gain) হলো কোনো মূলধনী সম্পদ (capital asset) হস্তান্তর বা বিক্রয়ের ফলে অর্জিত লাভ। অর্থাৎ, যখন আপনি কোনো সম্পদের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পর সেটি বিক্রি করেন, তখন আপনার আয় মূলধনী আয় হিসেবে গণ্য হবে। মূলধনী আয়ের হিসাব করা হয় হস্তান্তর মূল্য এবং ক্রয়মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য দ্বারা।
মূলধনী সম্পদের উদাহরণ—
জমি ও ভবন
ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট
শেয়ার ও সিকিউরিটিজ
বন্ড, ডিবেঞ্চার
অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ
📌 ব্যবসার পণ্য (Stock-in-trade) মূলধনী সম্পদ নয়।
কখন মূলধনী আয় সৃষ্টি হয়?
আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী কোনো সম্পদ—
বিক্রি
বিনিময়
হস্তান্তর
পরিত্যাগ
করলে তখনই মূলধনী আয় সৃষ্টি হয়।
মূলধনী আয় হিসাব করার পদ্ধতি
মূলধনী আয় নির্ধারণের জন্য একটি সহজ সূত্র রয়েছে যা নিচে উপস্থাপন করা হলো:
মূলধনী আয় = হস্তান্তর মূল্য − (ক্রয়মূল্য + সংশ্লিষ্ট ব্যয়)
এই সূত্রের মাধ্যমে আপনি সহজেই নির্ধারণ করতে পারবেন, কোনো সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে আপনার লাভ কতটা হয়েছে। মূলধনী আয়ের উপর কর (capital gains tax) সাধারণত আপনার মোট আয়ের সাথে যুক্ত হবে, তবে কিছু সাক্ষাতের জন্য এটি আলাদা কর হিসেবেও গণনা হতে পারে।
মূলধনী আয় কীভাবে হিসাব করা হয়?
মূলধনী আয় = হস্তান্তর মূল্য − (ক্রয়মূল্য + সংশ্লিষ্ট ব্যয়)
যেখানে—
হস্তান্তর মূল্য: বিক্রয়মূল্য বা উন্মুক্ত বাজারমূল্য (যেটি বেশি)
ক্রয়মূল্য: সম্পদ কেনার মূল্য
সংশ্লিষ্ট ব্যয়: রেজিস্ট্রেশন, স্ট্যাম্প ডিউটি, ব্রোকারেজ, ডেভেলপমেন্ট খরচ ইত্যাদি
মূলধনী আয়ের উপর কর: আয়কর আইন, ২০২৩
মূলধনী আয়ের কর নির্ধারণে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—
করদাতার ধরন
সম্পদের ধরন
ধারণকাল (Holding Period)
তালিকাভুক্ত শেয়ার (Listed Securities)
তালিকাভুক্ত শেয়ার বিক্রি করে অর্জিত মূলধনী আয়ের উপর—
ব্যক্তি, ফার্ম, কোম্পানি, ফান্ড সবার জন্য
➡ ১৫% হারে ফ্ল্যাট কর
📌 এখানে শেয়ার কতদিন রাখা হয়েছে, তা বিবেচ্য নয়।
জমি, ভবন ও তালিকাভুক্ত নয় এমন সম্পদ
▶ ৫ বছরের কম সময় ধারণ করলে
মূলধনী আয় মোট আয়ের সাথে যুক্ত হবে
কর দিতে হবে স্বাভাবিক করহার অনুযায়ী
(ব্যক্তির ক্ষেত্রে আয়কর স্ল্যাব)
▶ ৫ বছরের বেশি সময় ধারণ করলে
মূলধনী আয়ের উপর
➡ ১৫% হারে ফ্ল্যাট কর
কোম্পানি, ফান্ড ও ট্রাস্টের ক্ষেত্রে
কোম্পানি, ফান্ড বা ট্রাস্টের জন্য—
সব ধরনের মূলধনী আয়ের উপর
➡ ১৫% হারে ফ্ল্যাট কর
ব্যবহারিক উদাহরণ
এখন কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো যাতে আপনি বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন:
উদাহরণ ১: জমি বিক্রি (৬ বছর পর)
ক্রয়মূল্য: ২০,০০,০০০ টাকা
বিক্রয়মূল্য: ৩৫,০০,০০০ টাকা
মূলধনী আয়: ১৫,০০,০০০ টাকা
কর (১৫%): ২,২৫,০০০ টাকা
উদাহরণ ২: জমি বিক্রি (৩ বছর পর)
যদি একই জমি ৩ বছর পরে বিক্রি করেন
মূলধনী আয়: ১৫,০০,০০০ টাকা
এটি অন্যান্য আয়ের সাথে যুক্ত হবে
কর নির্ধারিত হবে ব্যক্তির আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী
উদাহরণ ৩: তালিকাভুক্ত শেয়ার বিক্রি
তালিকাভুক্ত শেয়ার বিক্রি - শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত শেয়ারের হ্যান্ডলিং এর মধ্যে সময়সীমা বিবেচনার প্রয়োজন হয় না, তাই এখানেও মূলধনী আয়ের ক্ষেত্রেও লাভের অনুপাত নির্ধারণ করতে দৃঢ়ভাবে এখানেও পাঠ্য সূত্র প্রয়োগ দিন।
মূলধনী আয়: ৫,০০,০০০ টাকা
কর (১৫%): ৭৫,০০০ টাকা
মূলধনী আয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:
মূলধনী আয় কেবল যখন সম্পদ হস্তান্তর হয়, তা তখনই সৃষ্টি হয়।
৫ বছরের বেশি ধারণ করা সম্পদের জন্য করহার কম (১৫%) হবে। তুলনামূলক কম
তালিকাভুক্ত শেয়ারে ধারণকাল বিবেচ্য নয়।
স্বল্পমেয়াদি মূলধনী আয় মোট আয়ের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
উপসংহার
মূলধনী আয়ের কর সঠিকভাবে না জানলে অপ্রয়োজনীয় করঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ আয়কর আইন, ২০২৩ মূলধনী আয়ের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সহজ ও স্পষ্ট কাঠামো দিয়েছে। তাই জমি, ফ্ল্যাট বা শেয়ার বিক্রির আগে করের বিষয়টি জেনে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
📌 সঠিক পরিকল্পনা ও সময়মতো রিটার্ন দাখিল আপনাকে আইনি ঝামেলা থেকে রক্ষা করতে পারে।
