বাংলাদেশে শুরু হলো e-Return ২০২৬–২৭

Ujjal Das ACA

7/23/2026

বাংলাদেশের কর ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও করদাতাবান্ধব করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ২০২৬–২৭ করবর্ষের জন্য e-Return (Electronic Income Tax Return) কার্যক্রম

আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে। ২২ জুলাই ২০২৬ থেকে করদাতারা ঘরে বসেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। কর প্রশাসনকে আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এটি শুধু একটি অনলাইন রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা নয়; বরং বাংলাদেশের কর প্রশাসনের আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন অধিকাংশ ব্যক্তি করদাতা ঘরে বসেই কয়েক মিনিটে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত, কর পরিশোধ এবং রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

Finance Act, 2026-এর মাধ্যমে করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে নতুন কর রেয়াত (Tax Rebate) চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত কর (Additional Tax) আরোপের বিধানও কার্যকর হয়েছে।

e-Return কী?

e-Return হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত, দাখিল এবং কর পরিশোধ এবং রিটার্ন গ্রহণপত্র (Acknowledgement) সংগ্রহ করার একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে করদাতাকে কর অফিসে না গিয়ে ঘরে বসেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ([National Board of Revenue][2])

এর মাধ্যমে একজন করদাতা—

  • অনলাইনে রিটার্ন প্রস্তুত করতে পারবেন।

  • অনলাইনে কর পরিশোধ করতে পারবেন।

  • প্রয়োজনীয় সিডিউল পূরণ করতে পারবেন।

  • রিটার্ন দাখিলের সঙ্গে সঙ্গে Acknowledgement Slip পাবেন।

  • Tax Certificate ডাউনলোড করতে পারবেন।

  • ভবিষ্যতের জন্য রিটার্ন সংরক্ষণ করতে পারবেন।

কেন e-Return চালু করা হয়েছে?

NBR-এর মূল লক্ষ্য হলো—

  • করদাতাদের হয়রানি কমানো।

  • কর অফিসে উপস্থিতির প্রয়োজন কমানো।

  • সম্পূর্ণ Paperless Tax Administration গড়ে তোলা।

  • দ্রুত রিটার্ন নিষ্পত্তি করা।

  • কর ফাঁকি কমানো।

  • তথ্যভিত্তিক কর প্রশাসন নিশ্চিত করা।

  • Smart Bangladesh Vision বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা।

কার জন্য e-Return বাধ্যতামূলক?

NBR-এর বিশেষ আদেশ অনুযায়ী অধিকাংশ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে e-Return দাখিল বাধ্যতামূলক। তবে নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা কাগজে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন—

  • ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা

  • শারীরিক প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা

  • বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা

  • মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি

  • বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক

  • প্রযুক্তিগত বা নিবন্ধনজনিত সমস্যার কারণে অনুমোদনপ্রাপ্ত করদাতা।

  • NBR কর্তৃক অনুমোদিত বিশেষ ক্ষেত্রে।

e-Return দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য

রিটার্ন শুরু করার আগে নিচের তথ্যগুলো প্রস্তুত রাখুন—

ব্যক্তিগত তথ্য

  • e-TIN

  • NID

  • মোবাইল নম্বর

  • ই-মেইল

চাকরিজীবীদের জন্য

  • Salary Certificate

  • Tax Deduction Statement

  • Provident Fund-এর তথ্য

  • Bonus

  • অন্যান্য ভাতা

ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য

  • FDR Interest

  • Savings Account Interest

  • DPS Interest

  • Bank Statement

সঞ্চয়পত্র

  • Interest Certificate

  • উৎসে কর কর্তনের তথ্য

বিনিয়োগ

  • DPS

  • Life Insurance

  • Approved Pension Scheme

  • Listed Shares

  • Mutual Fund

  • Sukuk

  • Government Securities

সম্পদের তথ্য

  • বাড়ি

  • জমি

  • ফ্ল্যাট

  • গাড়ি

  • ব্যাংক ব্যালেন্স

  • নগদ অর্থ

  • ব্যবসায় বিনিয়োগ

দায় (Liabilities)

  • Home Loan

  • Car Loan

  • Personal Loan

  • Credit Card Liability

  • এছাড়া প্রয়োজনীয় সকল Supporting Documents সংরক্ষণ করুন, কারণ NBR ভবিষ্যতে যাচাইয়ের জন্য তা চাইতে পারে।

e-Return দাখিলের ধাপ

  • Step–1 e-Tax Portal-এ লগইন করুন।

  • Step–2 Profile Update করুন।

  • Step–3 Income Information পূরণ করুন।

  • Step–4 Tax Exempt Income দিন।

  • Step–5 Investment Rebate Schedule পূরণ করুন।

  • Step–6 Assets and Liabilities Schedule পূরণ করুন।

  • Step–7 Tax Calculation Review করুন।

  • Step–8 Online Tax Payment করুন (যদি কর প্রযোজ্য হয়)।

  • Step–9 Submit Return-এ ক্লিক করুন।

  • Step–10 Acknowledgement ও Tax Certificate Download করুন।

e-Return দাখিলের সুবিধা

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে করদাতারা—

  1. ঘরে বসেই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

  2. কর অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

  3. কয়েক মিনিটেই রিটার্ন দাখিল।

  4. যেকোনো সময় রিটার্ন দাখিল করা যাবে।

  5. তাৎক্ষণিক Acknowledgement Slip ডাউনলোড করা যাবে।

  6. সঙ্গে সঙ্গে Income Tax Certificate পাওয়া যাবে।

  7. অনলাইনে কর পরিশোধ করা যাবে।

  8. ডিজিটাল ডাটাবেজে তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। যেকোনো সময় রিটার্নের অবস্থা দেখা যাবে।

  9. পূর্ববর্তী বছরের রিটার্নের তথ্য সংরক্ষণ ও ডাউনলোড করা যাবে।

  10. দ্রুত, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করসেবা পাওয়া যাবে।

  11. মানবিক হস্তক্ষেপ কম হওয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশের কর ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার পথে e-Return একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি করদাতাদের সময়, খরচ ও ভোগান্তি কমাবে এবং কর প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করবে। তাই সকল যোগ্য করদাতার উচিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে আইনগত বাধ্যবাধকতা পালন করা এবং প্রাপ্য কর রেয়াতের সুবিধা গ্রহণ করা।

বাংলাদেশের কর প্রশাসন ডিজিটাল রূপান্তরের একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। e-Return চালুর ফলে করদাতারা ঘরে বসেই সহজে, নিরাপদে এবং স্বচ্ছ উপায়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। একই সঙ্গে সময়মতো রিটার্ন দাখিল করলে Finance Act, 2026 অনুযায়ী কর রেয়াতের সুবিধাও পাওয়া যাবে।

সকল যোগ্য করদাতার উচিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য দিয়ে e-Return দাখিল করা এবং একটি দায়িত্বশীল কর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখা।

বাংলাদেশে শুরু হলো e-Return ২০২৬–২৭: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নতুন যুগ

  • শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব রিটার্ন দাখিল করুন।

  • রিটার্ন দাখিলের আগে TDS, ব্যাংক সুদ, সঞ্চয়পত্রের সুদ, FDR-এর সুদসহ সকল আয়ের তথ্য যাচাই করুন।

  • প্রয়োজনীয় নথিপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন।

  • আগাম রিটার্ন দাখিল করে ৫% কর রেয়াতের সুবিধা গ্রহণ করুন।

info@ujjalca.com

+8801715771417

© ujjalca 2025. All rights reserved.