ব্যক্তি করদাতাদের জন্য ন্যূনতম কর

ব্যক্তি করদাতাদের জন্য ন্যূনতম কর

2/7/20261 min read

বাংলাদেশে ন্যূনতম করের সারসংক্ষেপ

বাংলাদেশে ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য ন্যূনতম করের নিয়মাবলির কার্যকারিতা সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। বর্তমান বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, করদাতাদের করযোগ্য আয় যদি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে, তাহলে তাদের একটি ন্যূনতম পরিমাণ কর পরিশোধ করতে হবে। এটি সাধারণ কর্তব্য এবং সঠিকভাবে পালন করা জরুরি।

করমুক্ত সীমা

সাধারণ ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য বর্তমানে করমুক্ত আয়ের সীমা হল ৳৩,৭৫,০০০। এর মানে হচ্ছে, এই সীমার নিচে থাকলে কোন কর দিতে হবে না। তবে করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে নিম্নলিখিত ন্যূনতম করের আওতায় আসবেন:

ন্যূনতম কর – এলাকাভিত্তিক (বর্তমান/আগের আইন অনুযায়ী)

এলাকা/অবস্থানন্যূনতম কর (BDT)মন্তব্য

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন৳5,000বৃহত্তর ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের করদাতাদের জন্য সর্বোচ্চ স্তর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন৳5,000একই শ্রেণী

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন৳5,000একই শ্রেণী

অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায়৳4,000ঢাকা/চট্টগ্রাম ব্যতীত অন্যান্য বড় শহরের সিটি কর্পোরেশন এলাকা

সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে (গ্রামীণ/উপজেলা ইত্যাদি)৳3,000শহরের বাইরে বা সিটি কর্পোরেশন ব্যতীত অংশে

  • নিয়মিত (প্রথাগত) করদাতা: ৳৫,০০০

  • প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারী (নতুন) করদাতা: ৳১,০০০ (নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে)

এই তথ্যগুলি যথাযথভাবে বুঝতে করদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কর পরিশোধের নির্দেশিকা

যদি একটি করদাতার হিসাব অনুযায়ী স্ল্যাব অনুযায়ী হিসাব করা করের পরিমাণ ন্যূনতম করের চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই বেশি অঙ্কটিই দিতে হবে। অন্য কথায়, ন্যূনতম করের চেয়ে যে পরিমাণ কর হবে, সেটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলে ন্যূনতম কর প্রযোজ্য নয়, সেক্ষেত্রে কোনো কর দিতে হবে না। এটি উল্লেখযোগ্য যে, সঠিক তথ্য জানার সাথে সাথে করদাতাদের অবশ্যই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রতিটি করদাতার জন্য এই নিয়মাবলী জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

চলুন একটি সহজ উদাহরণে দেখি — স্ল্যাব অনুযায়ী কর আর ন্যূনতম কর – কোনটা প্রযোজ্য হবে।

ধরি (সাধারণ ব্যক্তি করদাতা):

  • করমুক্ত সীমা = ৳৩,৭৫,০০০

  • নিয়মিত করদাতার ন্যূনতম কর = ৳৫,০০০

  • প্রথমবার রিটার্ন দিলে (যোগ্য হলে) = ৳১,০০০

✅ উদাহরণ–১: কর স্ল্যাব অনুযায়ী কর ন্যূনতমের চেয়ে কম

মোট করযোগ্য আয় = ৳3,9০,০০০

করযোগ্য অংশ = 3,9০,০০০ – ৩,৭৫,০০০ = ৳1৫,০০০

ধরি প্রথম স্ল্যাব ৫% ⇒
কর = 1৫,০০০ × ৫% = ৳75০

👉 কিন্তু ন্যূনতম কর = ৳৫,০০০
✅ তাই দিতে হবে ৳৫,০০০ (কারণ এটি বেশি)।

✅ উদাহরণ–২: স্ল্যাব অনুযায়ী কর ন্যূনতমের চেয়ে বেশি

মোট করযোগ্য আয় = ৳৬,০০,০০০

করযোগ্য অংশ = ৬,০০,০০০ – ৩,৭৫,০০০ = ৳২,২৫,০০০

ধরি হিসাব করে কর দাঁড়াল = ৳১৮,০০০

👉 ন্যূনতম কর ৫,০০০ হলেও
✅ আপনাকে দিতে হবে ৳১৮,০০০ (কারণ এটি বেশি)।

✅ উদাহরণ–৩: নতুন করদাতা

উদাহরণ–১ এর মতো কর যদি 7৫০ আসে, এবং আপনি প্রথমবার রিটার্ন দিচ্ছেন ও শর্ত পূরণ করেন,
👉 তাহলে দিতে হতে পারে ৳১,০০০

সারকথা (সবচেয়ে সহজ ভাষায়)

👉 হিসাব করা কর বনাম ন্যূনতম কর
যেটা বেশি, সেটাই দিতে হবে।